ওভারব্রীজ বনাম ফুটওভার ব্রীজ
একটা ফ্লাই ওভার ব্রীজ ও হাজারটা ফুট ওভার ব্রীজে পার্থক্যটা কি জানেন ?
একটা বাবুয়ানা আরেকটা গরীবিয়ানা দর্শণ !
পৃথীবির উন্নত শহরের মডেলগুলোতে দেখবেন তাদের পরিকল্পনায় ফ্লাই ওভারের চিন্তা আসে যখন পাশের অন্য কোন সিটির মানুষ একটা সিটির উপর দিয়ে অন্য একটা সিটিতে যেতে চায় তখন !
আর ফুটওভার ব্রীজের চিন্তাটা আসে নিরাপদ সড়ক পারাপারের জন্যে !
এই শহরে উপরিউক্ত ধারণাগুলো একেবারেই ফেল করে যায় ৷ এখানকার নগর ভবনে যত হর্তাকর্তা আছে তাদের যোগ্যতা ও সেবা প্রতিষ্ঠানে বসে বানিজ্যের ও শ্রেণি বৈষ্যমের রুপগুলো প্রকট হয়ে ফুটে উঠে এ সামান্য একটা বিষয়ে !
এই শহরটাতে প্রয়োজন হাজারটা ফুটওভার ব্রীজ ! কিন্তু পরিবর্তে গড়ে তোলা হয়েছে গোটা পাঁচেক ফ্লাই ওভার !
মাঝেমাঝে ভাবি নগর ভবনে যারা বসে আছে তারা কোন শ্রেণির আতেঁল ?
যেখানে ছোট্ট একটা ফুটওভার ব্রীজের হাজার সমস্যার সমাধান হয় সেখানে তারা মূল সড়কের ফুটপাত স্থানীয় পাতি নেতাকে ইজারা দিয়ে জনসাধারণকে মূল সড়কে নামিয়ে আনে আর বাবুদের গাড়ি চলার জন্যে ফ্লাই ওভারের প্রস্তাবনা সর্বসম্মতিক্রমে পাশ করে জনগনের টাকার শ্রাদ্ধ করে !
জনদূর্ভোগের এ সমস্যা যখন যন্ত্রনা হয়ে দাড়ায় তখন গোদের উপর বিঁষ ফোড়ার রুপে এই শহরে যৌবনের রঙ্গ লাগিয়ে ফ্লাইওভারের উপযোগিতা ও উপকারিতার বক্তব্যে মনরঞ্জোনের চেষ্টা !
এদেশে এখন একপ্রকার মানষিক বৈকল্যতা দেখা দিয়েছে, যেমন জনগনে তেমন সরকারেও !
মূর্খ জনগন তার সাময়িক ফায়দা তোলে একজন সৎ জনপ্রতিনিধিকে সমর্থনের বিনময়ে হাত পেতে !
আর অসৎ জনপ্রতিনিধি এ সুযোগটুকু নিয়ে কিছু দিয়ে জনগনের স্থায়ী ক্ষতি করে যায় ক্ষমতা বলে !
দিনে দিনে এ অসুস্থ লক্ষন সরকারেও দেখা দিচ্ছে !
পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা করে নিজের সরকারে আর্থিক স্বার্থ হাসিল করে পরবর্তি সরকারের জন্যে আবর্জনা জমিয়ে যাচ্ছে ! এমনকি সরকার নামক একটা নিরপেক্ষ জনগনের সরকারকেও ব্যাক্তিগত মতপুষ্ট আবর্জনায় পরিণত করা হয়েছে !
রাষ্ট্রের গতিশীল সামর্থকে দলীয়ে সড়কে স্থবির করে রাখা হয়েছে ৷
এতকিছুর পরও রাষ্ট্রের প্রতিটি সরকারের লক্ষ্য ও গন্তব্য স্থির ! দিন শেষে চালকের পরিবর্তন হতেই পারে কিন্তু নিরাপদে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছানোর দায়িত্বটা ঠিকই পালন করতে হবে !
এতকিছুর পর রাষ্ট্র নামক গাড়ির যাত্রী হবার পূর্বে অন্তত গাড়ির ফিটনেস ,চালকের মানষিক ভারসাম্য ঠিক আছে কি না তা যাচাই করার দ্বায়িত্বটা তো আপনারই !
গাড়িতে উঠে সিটে বসে কানে হেডফোন লাগিয়ে-
"আছেন আমার মুক্তার,
আছেন আমার ব্যারিস্টার !
শেষ বিচারের হাইকোর্টেতে
তিনি আমায় করবেন পার ! "
গান শুনতে শুনতে যদি চোখ বুজেন তবে চালকের দোষে হয়তো কোন খাদে নিজেকে আবিষ্কার করতেও পারেন ! তখন চালক বেটাকে আর খোজে নাও পেতে পারেন !
গাঁ বাঁচানো আর হাওয়া লাগানো স্বভাব বাদ দিয়ে তাই একটু অন্তত নিজের অধিকার সচেতন হউন !
বিড়ালের আওয়াজে যেমন চারপাশে ইদুর থাকে না তেমনি আপনার শুধু একটু প্রতিবাদে দূর্নীতিবাজ,রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুন্ঠনকারি,অসৎ রাজনীতিবিদ সহ সকলের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে যাবে ৷
মৃত্যুর ভয়ে যেমন করে নিজেকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে রেখেছেন সে মৃত্যু কি খুব বেশি দুরে ? সে তো আপনার প্রিয়তমার অতর্কিত আগত চুম্মনের চেয়ে অনেক কাছে ! কার কাছ থেকে তাহলে পালাচ্ছেন ? বলুনতো !
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন