ক্ষমতায়ন

আপনি চাইলেই নষ্ট ও ভ্রষ্ট রাষ্ট্রে ভাল থাকতে পারেন ৷ তবে তা অনেকটা যুদ্ধ করেই ! আবার আপনি চাইলেই নিন্মমানের জীবন যাপন করতে পারেন না একটা কল্যানমুখী রাষ্ট্রে !
কল্যান রাষ্ট্রে বা আদর্শ রাষ্ট্রে জীবন যাপন সৌভাগ্যের বিষয়  তবে সেটা অর্জিত হয় অগ্রজের তৈরি নৈতিক দৃষ্টান্তে ৷
আবার সেটা খুব কম সময়েই পদস্খলিত হয় ইতরের সংস্পর্শে !
কল্যান রাষ্ট্র এবং তথাকথিত রাষ্ট্রে মানদণ্ড পরিবর্তন হয় কেবল অর্থের প্রাচুর্যের কারনে  ৷

কল্যান রাষ্ট্র গড়ে উঠে আদর্শ পরিবারকে কেন্দ্র করে !
আর তথাকথিত ভ্রষ্ট রাষ্ট্র গড়ে উঠে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করো !
তাই কল্যান রাষ্ট্রে রাষ্ট্রনায়করা ধনী নন অর্থে কিংবা প্রাচুর্যে কিন্তু  নষ্ট রাষ্ট্রে রাষ্ট্রনায়করা হন প্রাচুর্যের পাহাড় ৷

একটি কল্যান রাষ্ট্র গড়ে তুলতে আপনাকে কাজ করতে হবে দীর্ঘমেয়াদে আদর্শ পরিবার গড়ে তুলে এবং রাষ্ট্রে ক্ষমতাধরদের আর্থিকভাবে দূর্বল করে ৷
আর একটি তথাকথিত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে আপনাকে কাজ করতে হবে ক্ষমতায়ন শব্দ ব্যাবহার করে ইতরদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে এবং তাদের হাতে অপ্রতুল অর্থ তুলে দিয়ে ৷
এ দুই রাষ্ট্র কাঠামো একে অপরের প্রকাশ্য শত্রু ৷ তাই সুযোগ পেলেই কল্যান রাষ্ট্র ভ্রষ্ট রাষ্ট্রের অপরিমেয় অর্থের নিয়ন্ত্রন করে আর ভ্রষ্ট রাষ্ট কল্যান রাষ্ট্রের পরিবার ভাঙ্গনে কাজ শুরু করে !
কারন যদি অপরিমেয় অর্থের আদান প্রদান কমে তবে রাষ্ট্রে দ্বায়িত্ব সক্রিয় হয় নীতির সাথে !
আর পরিবার ভাঙ্গলে তা ক্রমে সমাজে এবং সর্বশেষ রাষ্ট্রে অরাজকতা সৃষ্টি করে ধ্বংস ডেকে আনে ৷

বাংলাদেশের এখন একটি ট্রান্জেশন প্রকৃয়া চলছে ! আমার বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যার্থ ও ভ্রষ্ট রাষ্ট্রে পরিনত হতে চলছে রাষ্ট্রের ভ্রষ্টদের নষ্ট নীতির কারনে ৷
ব্যাখ্যা চাইতেই পারেন ৷
সে ব্যাখ্যার উত্তর হলো রাষ্ট্রে জনগনকে লোভাতুর করে তুলা হচ্ছে ক্রমশ ৷
আর লোভে ধর্ম নাশ হয় ৷
রাষ্ট যখন নীতিগতভাবে তার মেরুদন্ড শক্তিশালী করার চেয়ে প্রসাধনীতে মনোযোগী হয় তখন রাষ্ট্র আর রাষ্ট থাকেনা, প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয় ৷ একটি নবগঠিত রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকের মৌলিক চাহিদাগুলোর সর্বত্তোম ব্যাবস্থা করতে পারে তবে তা ক্রমে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিনত হতে চলার একটি প্রাথমিক ধাপ ৷
আর রাষ্ট্র যদি তা না করে কাঠামোগত উন্নয়নে মনোযোগ হয় তবে সেটা ভ্রষ্ট রাষ্ট্রে পরিনত হবার একটি ধাপ ৷
ধরুন আপনি যদি একটি প্রতিষ্টানের দ্বায়িত্ব পেয়ে তার কর্মচারিদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও তাদের প্রয়োজন পুরণ না করেন বরং উল্টো প্রতিষ্ঠান এর উন্নয়নের নামে মেশিনারিজ, অবকাঠামোগত সম্পদ বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেন তবে আপনার প্রতিষ্ঠানের পূর্বতন কর্মচারিরা সবাই তার সাথে মানিয়ে নিতে পারবে না! অপর পক্ষে লোভী মালিক হিসেবে আপনি চাইবেন অর্থ ৷ যার ফলে প্রয়োজনে আপনি বাহির থেকে কর্মি নিয়োগ দেবেন, পুরতনদের ছাটাই করবেন ,যারা কিনা এতদিন এ প্রতিষ্টান টিকিয়ে রেখেছিল !
নিশ্চয় এতে কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে!

আমরা স্বাধীনতা অর্জন করে আহামরি কিছু অর্জন করতে পারিনি বরং নিজেদের কিছুটা অহংকারী করে গড়ে তুলেছি ! আমরা নৈতিক কারনে স্বাধীন হইনি, হয়েছি ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে ৷ যার ফলে আমাদের শুরুই হয়েছে অনেকটা ভ্রষ্ট বা পিচ্ছিল পথে ৷ যে পথে আমাদের নীতির প্রতিযোগিতা করতে হয়নি, করতে হয়েছে নেতার,ক্ষমতার ও অবকাঠামোগত প্রাচুর্যের উন্নয়নে ৷ তা রাতারাতি সারা দেশ ব্যাপি হয়নি ৷ সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায় এ ক্রমোবিকাশ ৷

স্বাধীনতার পরপরই আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করতে হয়েছিল ভিন্ন রাষ্ট্রের মুদ্রানীতি নিয়ে ৷ তাতে  কে কি করে ধীরে ধীরে ষঢ়যন্ত্রের কুটনীতি ও অর্থনীতির বীজ রোপন করে গেছে তা বলা কঠিন ৷
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রে অবকাঠামো উন্নয়নে রাষ্ট্র প্রধানদের যে আগ্রহ ছিল তার সিকি ভাগ মৌলিক কাঠামো উন্নয়নে ছিল কি না তা সন্দেহর অবকাশ রাখে যথেষ্ট ৷
একটি সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রের উন্নয়নে প্রয়োজন ছিল প্রচুর অর্থ, পরিকল্পনা ও শ্রমিকের ৷ যার কেবলই শ্রমিক ই ছিল  বাদ বাকি দুই ই ধার করা ৷ ফলে সেই প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি মাথায় আনুন যা একটু আগে পড়েছেন ৷
বাংলাদেশ স্বাধীনতা পর প্রায় দুই যুগ এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এবং অনেক চেষ্টায় বর্তমানে নিজের অর্থ ও পরিকল্পনা তৈরি করেছে! কিন্তু বর্তমানে সমস্যা দেখা দিল শ্রমিক সংকট !
যেহেতু এ রাষ্ট্রের জন্ম নীতিগত নয় তাই ক্ষমতাধরদের নীতি যা আছে তা বিসর্জনে সামান্য হীনমন্যতা বোধের কারন নেই ৷ তাই একটা সাম্রাজ্যবাদী ও পুজিবাদী কৌশলে তারা তাদের শ্রমিক বৃদ্ধি করলো !
আর সে কৌশল হলো 'ক্ষমতায়ন' !  নারীর ক্ষমতায়ন !
যে কোন দেশের খুব স্বাভাবিক হারে জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হয় ৷
নীতিগত রাষ্ট্রে যা রিজার্ভ ফোর্স হিসেবেই সঞ্চিত থাকে ৷
কারণ বুদ্ধিমান রাজা তার সমস্ত সৈন্য যুদ্ধে ব্যাবহার করে না ৷
কেউ যখন তার সমস্থ শক্তি ব্যাবহার করে ফেলে তখন যে শূন্যস্থান তৈরি হয় তা পুরনে দূর্ঘটনা ঘটে বা আগের অবস্থা ফিরে  পাওয়া যায় না হুবাহু ৷
নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে যখন রাষ্ট্র নারীকে পরিবার নামক সুরক্ষা চক্র হতে বাহির করে এনে তার প্রতিষ্ঠানে সস্তা শ্রম পাওয়ার জন্যে নিয়োগ দিল তখন তার শ্রমে উপার্জিত সামান্য অর্থে  তার ছেড়ে আসা পরিবারের শূন্য স্থান আর পুরন করা যায় নি ৷
যার ফলে পরিবারের কর্তা ও কর্ত্রী দুজনই কর্মরত হওয়ায় তাদের সঞ্চয় দেখার কেউ থাকে না পেছনে ৷ যার ফলে দূষ্ট পুজিবাদ আত্মনির্ভরশীলতাতার নাম করে যা অর্জন তা আবার পকেটস্থ করে মুচকি হাসে ৷আর কর্তা ও কর্ত্রী দুজনেরই সংসার নামক পরিবারটা হয়ে উঠে কেবল যৌনতার একটি সম্পর্ক এবং সন্তান হয়ে উঠে কেবলই একটা ইনভেস্টমেন্ট আর্থিক নিরাপত্তার স্থান ! কোন কোন ক্ষেত্রে তাও হয়ে উঠেনা ! ফলে নারীর ক্ষমতায়নের বিষ বাষ্পে যা আমাদের অর্জন তা আদতে পুজিবাদীদের অর্জন ৷ আর আমাদের মৌলিক প্রতিষ্ঠান আদর্শ পরিবারকে ভেঙ্গে দিনদিন ভ্রষ্ট ও অর্থলোভী রাষ্ট্র বা তার ক্ষমতাধরকে শক্তিশালী করছি এবং বিনিময়ে আমাদের কল্যান রাষ্ট্রে মৌলিক কোষ নামক আদর্শ পরিবারগুলো ভেঙ্গে নিজেদের সর্বশান্ত করছি !
দিনশেষে আমাদের অর্জনগুলো  বৃদ্ধাশ্রমে চশমার ফ্রেমে ঝাপসা হয়ে আসায়, হতাশার কফিনে সাদা কাপড়ে সব কিছু ঢেকে ব্যার্থতা না অর্জন তার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘুমাচ্ছি !



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর গঠনতন্ত্র

বান্দরবান পরিচিতি

ইসলাম ও ইহুদী ধর্মের কিছু সাদৃশ্যের কথা