সমসাময়িক ও ইত্যাদি

আমাদের এখনো যেমন কিছু বলার নেই, তখনও কিছু বলার থাকবে না!
আমরা দেয়ালে পিঠ না ঠেকলে সাধারণত গালি বা খিস্তি দেই না! কারন আমাদের অধিকার নেই ৷ যারা রাজনীতি করে, যারা সরকারে থাকে এটা তাদের রাজনৈতিক নিয়মতান্ত্রিক অধিকার ও চর্চা !
আমরা লজ্জিত হই এবং শংকিত হই একজনের বা এক দলের আচরণে অন্য জন বা দলের জন্যে কি শিক্ষা রেখে যায় ৷
আমরা জনসাধারণ সাধারনত যতটা ভালবাসি একজন বঙ্গবন্ধুকে ঠিক ততটা না হলেও মোটামুটি পছন্দ করি জিয়াউর রহমানকে ৷
কিন্তু যখন দেখি কেউ একজন রাজনীতিতে আলোচনায় আসার জন্যে একজন বীর মুক্তিযুদ্ধা জিয়ার নিন্দাবাদ প্রকাশ্যে বীরদর্পে করে আর সরকার তাতে চুপ তখন আতংকিত হই যখন জাতীয়তাবাদী দল সরকার হবে বা তার মতাদর্শিক জনবল বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে না জানি কি নেতিবাচক মন্তব্য করে বসে!
দেশে সঠিক পরিসংখ্যান মতে মাত্র ৩•৫ শতাংশ মানুষ সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত! বাদ বাকী সকলের কাছে এ দুজন জাতীয় বীরের যথেষ্ঠ মর্যাদা আছে ৷ এতে ভিন্নমতাবলম্বীদের হয়তো একটা নিদৃষ্ট সময় নানা কুটমন্তব্য সহ্য করতে হয় কিন্তু জাতী হিসেবে কথা চালাচালির ফাকে আমাদের জাতীয় বীরদের ছোট করার লজ্জা আমাদেরই বয়ে বেড়াতে হয় ৷

একজন মানুষ তার ভাল সময়গুলো সব সময়ের জন্যে ধরে রাখতে বা বয়ে বেড়াতে পারে না!  নিঃসন্দেহে দীর্ঘ দিন দীর্ঘ পথে নানা ঝড় ঝঞ্ঝার বাধা অতিক্রম করে আওয়ামীলীগ তাদের একটা চমৎকার সময় অতিক্রম করছে! কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামীলীগ আমাদের সকলের মধ্যে রাজনৈতিক অগ্রজ! মানে, জ্ঞানে,মর্যাদায়, ত্যাগে,সংগ্রাম ও সাফল্যে এর আশেপাশে কেউই নাই ৷ কিন্তু কিছু অপরিনত ও অপরিপক্ক রাজনৈতিক কর্মির আচরণে বারংবার এ দল সমালোচিত হচ্ছে ৷
এতকিছুর পর ও দেশের মানুষ চেয়ে থাকে আওয়ামীলীগের প্রতিই ৷ কারণ অগ্রজ অনুজকেই শাসন করে, ভুল সংশোধন করে দেয়, ভুল ক্ষমা করে, হাজারও অপরাধের পরে কান ধরে লাইনে আনে কিন্তু নিজে ভুল করে না! করতে পারে না! কারন তার ভুলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয় সবাইকে ৷
এতটুকু বলার কারণ হলো এতবড় একটা দল হয়েও দলটি তার সবচেয়ে নিকটবর্তী অনুজ বিএনপির একজন সম্মানিত নেত্রীর সাথে যে আচরণ করছে বা দেখাচ্ছে তা আমাদের আশংকার জায়গা তৈরি করে ৷ নিকট ভবিষতে যদি আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় না থাকে তবে এই দলের নেত্রীর সাথ তখন যে সরকার থাকবে তারা কি আচরণ করবে? এই পরিবারটাকে ঘিরে তো আমাদের প্রচন্ড আবেগ আর দ্বায়িত্বের যায়গা তৈরি হয়ে রয়েছে!
আমরা যারা খুব সাধারণ মানুষ তখন আমরা কি করে এর প্রতিকার করবো? 

একজন বয়োবৃদ্ধ সাংবাদিক! স্পষ্টতই জানি তাদের একটা রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে ৷
তারা তাদের কর্মি বা নেতাকে যেই উপাধি দিক তাতে আমি ভিন্নমত পোষণ করতেই পারি ৷ তাই বলে আমি যা বিশ্বাস করি তাকে জোড় করে তা ই বিশ্বাস করাতে হবে এ কাজে এমন কোন সফলতা আছে বলে আমি অন্তত বিশ্বাস করি না ৷ এভাবে কোন সংবাদপত্রের অফিসে, তার কর্মিদের আক্রমন,প্রধান সম্পাদককে অপদস্থ করা এ বিংশ শতাব্দীতে সাফল্য বা সার্থকতার নয় রাজনৈতিক দৈন্যতা প্রকাশ করে ৷ মতের বিরোধিতা মত দিয়ে করাটা সভ্য ও বুদ্ধিমানের কাজ ৷

বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তির এ যুগে নিজেকে একজন আদর্শ কর্মি হিসেবে গড়ে তুলা প্রতিটা রাজনৈতিক কর্মির কর্তব্য ! আপনি কেবল শ্লোগান দিতে জানেন, আপনার কয়েকটা ক্লোজ ছবি আছে অমুক অমুক নেতার সাথে, আপনাকে কোন কাজ করতে বললে বিনা বাক্য ব্যায়ে তা করে দেন এসব দিয়ে আপনার যোগ্যতার প্রমান হয় না! এসব করে নিজেকে একটা রাজনৈতিক দলের কর্মচারি হিসেবে প্রমান করা যায় ৷ কর্মি, কর্মকর্তা, নেতা না ৷ ঐসব কাজ করে সুইপারের,পিউনের, গেইটম্যানের,গান ম্যানের চাকরি পাওয়া যায় ৷ আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের জন্যে আদর্শ রাজনৈতিক কর্মি বা নাগরিক হওয়া যায় না ৷
নিজেদের এখন থেকে মানুষিক ও শারীরিকভাবে অতটা যোগ্য করে গড়ে তুলতে না পারলে সামনে প্রতিটা রাজনৈতিক কর্মি, নেতা, দল ও সরকারের জন্যেই বিপদ!
প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় দিনদিন চাকুরির বাজার সংকুচিত হচ্ছে কিন্তু সৃজনশীল কাজের প্রতিযোগিতা বাড়ছে ক্রমশই ৷ সরকার যার কারনে ক্রমেই অসামর্থ্য হয়ে উঠবে ক্রম বর্ধমান বেকারের হারের লাগাম টেনে ধরতে ৷ এতে রাষ্ট্রের ক্রমেই নিরাপত্তা ও শৃংখলা ঝুকির মুখে পরবে ৷ তখন আপনার শ্লোগান, পদলেহন কর্মে যোগ্যতা বলে বিবেচিত হবে না ৷ তাই যত দ্রুত সময়কে বুঝতে পারবেন কে কি চায় কখন কোথায়, ততই সচেতন রাজনৈতিক কর্মি আপনি হতে পারবেন এবং যত দ্রুত চাহিদা মত যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন ততটাই আদর্শ ও যোগ্য কর্মি ও নাগরিক হয়ে উঠতে পারবেন আপনি ৷

আপনি এখন আমাদের সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদকে বাহবা দিচ্ছেন ৷ কদিন পর দিবেন না যদি তাকে বুঝতে না পারেন ৷ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা দুটোই জানাবেন যদি তার থট আপনি ধরতে পারেন ৷
আপনি হয়তো কল্পনাও করতে পারছেন না সামনের সময়টাতে চাকরির বাজার কতটা ভয়াবহ হতে চলছে ৷ এ ভয়াবহ সময়ে এত বড় পেট বিশিষ্ট রাষ্ট্রের কি হবে ভেবেছেন ?
যদি ভাবেন তবে একটু খোজখবর নেবেন চীন, জাপান, তাইওয়ান, হংকং,ভিয়েতনাম, ইসরাইল, ভারত কি করছে তাদের মানুষের পেট চালাতে!
তারা তাদের মাটি, জল, খনিজ সম্পদ,বায়ুর সবচেয়ে কম ক্ষতি ও অপচয় করে সবচেয়ে বেশি প্রফিট কি করে করছে !
বড় বড় কলকারখানা স্বল্পমেয়াদে  যতটা না উপকারি তারচেয়ে হাজারগুন ক্ষতিকর দীর্ঘমেয়াদে  ৷ তাই দেশের পরিবেশ ও সম্পদ রক্ষায় সফ্টওয়ার, মাইক্রো বিজনেস, এস্যাম্বল বিজনেস, আউটসোর্সিং সবচেয়ে সময়োপযোগী পলিসি ৷ আর যারা ভাবেন শেখ হাসিনার সরকার দেশের সব বেচে দিল ভারতকে তাদের আমি জ্ঞান দেবো না তবে অনুরোধ করবো সামান্য হলেও জিওপলিটিক্স পড়ার  ও বুঝার জন্যে ৷
যারা দিন দুনিয়ার খবর রাখেন তারা একটু খোজ নিবেন এই সরকার কয়টা সুপার পাওয়ারের দেশ থেকে দেশে বিনিয়োগ এনেছে ৷ তারপর ভারত থেকে কি আনলো আর কি দিলো ৷ স্বপ্নেও কখনো ভাববেন না ভারত দেশ দখল করবে ৷ দেশ যাতে দখল করতে না পারে তার জন্যেই মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আনছে সুপার পাওয়ারের দেশ গুলো থেকে ৷ আর এরা যে কাবলিওয়ালা তা তো জানেনই ৷ এরা যে দেশে বিনিয়োগ করে তা তারাই রক্ষণাবেক্ষণ করে ৷ সো সবাইকে রাষ্ট্রের মাটি ও ঘাটি ব্যাবহার করতে দেবে, দিতে হবে কিন্তু বিনিময়ে আপাতত অল্প টাকায় হবে ৷ চায়ের নেশা ধরলে তখন বাড়িয়ে নেয়া যাবে ৷
আর এটাই বাংলাদেশ ক্রমেই এই অঞ্চলের সিংগাপুর হয়ে উঠার গল্পের শুরু ৷ আপনি হাসতেই পারেন তবে আমি এই ভিশনে ভীষণ আশাবাদি ৷ বাদবাকি রাষ্ট্রের মানুষের সহযোগিতা বা ষড়যন্ত্র এর উপর নির্ভর করছে ৷

লিখাটা দীর্ঘ হওয়া  দুঃখিত, ধর্য্য ধরে পড়ার জন্যে ধন্যবাদ!
রাজনৈতিক মতাদর্শের কাউকে আঘাত দিয়ে থাকলে ক্ষমাপ্রার্থী ! 
 ভাল থাকবেন  ,ভাল রাখবেন!  সালাম ৷

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর গঠনতন্ত্র

বান্দরবান পরিচিতি

ইসলাম ও ইহুদী ধর্মের কিছু সাদৃশ্যের কথা