ইভিএম ও ভোট রাজনীতি

ধরুন কোন এক ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২৪০০ জন যার মধ্যে 
নারী ১১৪৫ এবং পুরুষ ১২৫৫ জন ৷
প্রিজাইডিং অফিসার বুথ তৈরি করলেন ৪টি, নারীদের জন্যে ২টি এবং পুরুষদের জন্যে ২টি! তাহলে গড়ে প্রতি বুথে ভোটার সংখ্যা দাড়ায় ৬০০ জন ৷

ভোটের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৷ মোট ৮ ঘন্টা সময় ৷
মিনিটের হিসেবে ৬০×৮ বা ৪৮০ মিনিট!
আগে যখন ব্যালটে ভোট হতো তখন গড়ে একটি ভোটের জন্যে সময় লাগতো দুই মিনিট! অর্থাৎ প্রতি বুথে ৬০০ টি ভোট গ্রহনের জন্যে লাগবে ১২০০ মিনিট আর আপনার আছে ৪৮০ মিনিট! তার মানে হলো সারাদিন ভোটার উপস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আপনি {(480/1200)×100}=40%ভোট কাস্ট করতে পারবেন!

আচ্ছা এত গেলো যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে তখনকার কথা ৷ যখন অস্বাভাবিক থাকে পরিবেশ তখন কি হয় ?
আমার বিশ্লেষণে আমি পাই এ দেশে
আওয়ামীলীগের কর্মি বা কাউন্ট ভোট - ৩১%
বিএনপির-২৯%
জাতীয়পার্টি-৭%
জামায়েত ইসলাম -৩%
অন্যান্য ১~২%
ভাসমান ভোট ২৮~২৯% (যাদের মধ্যে ৬০% ভোট দেয়ার আগ্রহ দেখান না যার পরিমাণ প্রায় ১৮%)
এখন যদি কোন কারনে বড় দুটো দলের একটির অনুকুলে পরিবেশ না থাকে তবে সে দলের ভোটের উপস্থিতি প্রায় ৫% এ পৌছায় ৷ক্ষেত্র বিশেষে ১% ও হয় ৷ আর বাদ বাকিদের আসার তো প্রশ্নই আসে না ! 
কথা প্রসংগে ধরুন আওয়ামীলীগের কথা ৷এখন আমাকে বলেন  ২৪০০ ভোটের ৩১% কত ?  প্রায় ৭৫০ ?
ইভিএমে প্রতিটি ভোট গ্রহনে গড়ে ৫ মিনিট সময় লাগে ৷ যার অর্থ হলো ৪টি বুথে ৭৫০ জনকে ভাগ করে দিলে প্রায় ১৮৮ করে পরে ! ১৮৮ জনের ৫ মিনিট করে সময় লাগলে তা কি ৪২০ মিনিটে নেয়া সম্ভব ? তারমানে কেবল দলীয় কর্মি দিয়ে ভোট করলেও প্রায় সবার ভোট নিতে ৯৪০ মিনিট প্রয়োজন !  তার মানে নিজের  অর্ধেক কর্মির ও ভোট নেয়ার সুযোগ নাই ! এর অর্থ দাড়ায় বড় দুই দল নিজেদের সমর্থনের পুরো ভোট তো পায় ই না বরং অর্ধেক কাস্ট করতেই তাদের এত ইলেকশন ইন্জিনিয়ারিং আর মেকানিজম !
সহজ ভাষায় যে ভোট হচ্ছে তার প্রকৃত চিত্র হলো নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বর্তমানে প্রায় ১৫% এর চেয়েও কম ভোট পান ৷ প্রিজাইডিং অফিসারেরর একসেস ক্ষমতা ২% ৷ কেউ কেউ বলে সেটা নাকি ২০%(যদি এটা হয় তবে নির্বাচনী অপরাধটা ভয়াবহ রকমের হচ্ছে ) ৷
যার অর্থ দাড়ায় যখন ভোটারের উপস্থিতি একেবারেই কম থাকে তখন ১৭% ভোট কাস্ট হয়েছে দেখায় ৷ আর যখন মোটামুটি তখন ২৭%-৩৭% !
আদতে বৈরি পরিবেশে ৫-৭% এর বেশি না!
এ বার্তা আমাদের কি সংকেত দেয় ?
এ বার্তা আমাদের বলে আমরা গুটি কয়েক মানুষের দুষ্ট ছলে ও কৌশলের কাছে বন্দি ! আদতে এরা একই জাতের ভিন্ন নামের সুবিধা ও উচ্ছিষ্ট ভোগী কেবল কিছু পরিবারের ! তাই গনতন্ত্রের কথা বলে এ রাষ্ট্রের মানুষকে ধোকা ছাড়া এরা কিছুই দেয় না! এদেশের প্রতিটি স্তরে যেভাবে পরিবারতন্ত্র ও স্বজনপ্রীতি জেকে বসেছে তাতে স্বাধীনতার মাদুলিই আমাদের পরবর্তি প্রজন্মের জন্যে সম্পদ !
গনতন্ত্রের দোহায় দিয়ে গরীব দেশের এ ভোট নামক হাতি পোষার প্রয়োজন আছে কি না তা আমার বোধগম্য নয় ৷ তারচেয়ে VAT, আয়কর, খাজনা ইত্যাদি নানাবিধ ব্যায় জনগনের কাছ থেকে না তুলে জনগনকে একটু বাঁচতে দেয়াটা অনেক অনেক বড় স্বাধীনতা!

তবে আমি জানি না আমাদের স্বাধীনতা বিপ্লবে কবে বিবর্তিত হবে !
স্বাধীনতা কি কেবলই চেয়ারের মানুষগুলোর পরিবর্তন ? যদি তা না হয়  তবে কেন স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও এদের আচরনের সাদৃশ্যতা এত প্রচন্ড!  এরা কেন আমাদের এখনো এতটা বোকা ভাবে ? কেন আমাদের মাথায় এরা কাঁঠাল ভেঙ্গে খায় ? আমরা তবে কাকে বিশ্বাস করবো? 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর গঠনতন্ত্র

বান্দরবান পরিচিতি

ইসলাম ও ইহুদী ধর্মের কিছু সাদৃশ্যের কথা