করোনা ও লকডাউন
ফেসবুকে এতবড় ভাই কি করে একটি কার্যকর লকডাইন এর পরিবেশ তৈরি করা যায় তা জানতে চেয়েছেন এবং সমালোচনা না করে বরং সবাই আলোচনা করে একটি পদ্ধতি খুজে বের করতে আন্তরিক চেস্টা করছেন ৷
তাই একটু বড় হলেও লেখাটা ৷
একজন মানুষকে ঘরে রাখতে প্রথমে জানতে হবে সে কেন ঘর হতে বাহির হয়?
নানা জন নানা কারণে বাহির হয়! আপনার টার্গেট করতে হবে পিন পয়েন্টে ৷
আমার দেখা দুই ধরনের মানুষ আছে যার একজন প্রয়োজনে অন্য জন একঘুয়ে অবসর কাটাতে বের হন ৷
এ দুই টাইপের মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে পারলে অনেকটা ফলপ্রসূ লকডাউন পাওয়া যাবে ৷
এ ছাড়া আরেকটি প্রধান অংশ যারা দিন আনে দিন খায় তারা জীবিকার জন্যে বের হবেই যদি রাষ্ট্র তাদের দ্বায়িত্ব না নেয় ৷
এরপর আসুন গনজমাযেত ঠেকাতে হলে তা প্রধানত কোথায় হয় এবং কেন হয় তা জানা এবং তাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা!
বাজার, মাঠ,চায়ের দোকান, শপিংমল, গলির মোড় ,প্রার্থনার স্থানগুলো প্রধানত হটস্পট!
এখন প্রথমে যাদের আর্থিক অবস্থা দূর্বল তাদের প্রত্যেকের মোবাইল অ্যাকাউন্টে একটি নিদির্ষ্ট বরাদ্দ পাঠানো এবং তা স্বচ্ছতার সাথে নির্ণয় করা ৷
অতপর প্রতি ঘরের এক বা দুজন নিদৃষ্ট করা যারা কেবল মাত্র ঘরের বাহিরে যাবেন এক্ষেত্রে তাদের বয়স অবশ্যই ১৬-৪০ হতে হবে ৷
জেলাতে স্বেচ্ছায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাকারিদের সমন্বয় করে প্রতিটি ওয়ার্ড/ইউনিয়ন/গ্রাম/মহল্লায় ৩০ জনের একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম তৈরি করা ৷
যাদেরকে ঐ এলাকার জনপ্রতিনিধির নেত্রীত্ত্বে ১০ জন করে ৩টি টিমে ভাগ করে সংগ্রাহক, সমন্বায়ক ও সরবরাহকারী নির্ধারণ করা ৷
যেখানে সমন্বায়কের কাজ হলো তথ্য সংগ্রহ করা তার এলাকায় ৷ পুরু এলাকা দশটি গ্রেডে ভাগ করে দশজন দশ জায়গায় তার দ্বায়িত্ব পালন করা ৷ তথ্যের মধ্যে সচেতনতা মূলক হেন্ডবিল প্রদান, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে খোজ নেয়া, কাচাবাজার ও নানাবিধ চাহিদার ফর্দ নেয়া!
সংগ্রাহকের কাজ হলো সমন্বায়কের সরবরাহকৃত তথ্য মতে সেই সকল বিষয় বস্তু বা বাজার সংগ্রহ করা ৷
অতপর সরবরাহকারী তা নিদৃষ্ট সময়ে চাহিদামতো সরবরাহ করা যথাযথ স্থানে ৷
এ কাজে সহযোগীতার জন্যে যারা এগিয়ে আসবেন তাদের নিরাপদ রাখার ব্যাবস্থা নিতে হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির!
এখন আসুন এ কর্মযজ্ঞে অর্থটা আসবে কোথা হতে? লাভ কতটুক করবে? এবং তা কে কতটুকু পাবে সেটা পরিস্কার করে নেয়া ভাল!
ধরে নিন এটা সরকারি কাজ! প্রতিটি এলাকায় তাই এ কাজ করতে অন্তত একটি(দুটো হলে একটায় আমিষ ও অন্যটায় নিরামিষ) মাঝারি সাইজের ট্রাক লাগবে! যার কেবল মাত্র তেল খরচটুকু ও চালকের খাবারের জন্যে অর্থ বরাদ্দ থাকবে!
বাকি পন্য এলাকার মুদি দোকানগুলো থেকে প্রতিদিন সংগ্রহ করার অনুমতি দেয়া যেতে পারে ৷ তবে দোকানে দুইয়ের অধিক লোকের উপস্থিতিতে তৃতীয় ব্যাক্তিকে জরিমানার বিধান রাখতে হবে ৷ প্রয়োজনে ফার্মেসি ও মুদি দোকান ২৪ ঘন্টা খোলা রাখা যাবে তবে শর্ত একটাই ৷ নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখা তৃতীয় ব্যাক্তির উপস্থিতি সম্পর্কে কঠোর হওয়া ৷
এ ছাড়া সকাল ও বিকালে বয়স্কদের বা যাদের প্রয়োজন (ঐচ্ছিক) তাদের নিজের বাড়ির অন্তত ১০০ ফিটের ভেতর অবস্থান করে ফ্রি হ্যান্ড এক্সেসাইজ করার সুযোগ দেয়া(নিরাপত্তামূলক ব্যাবস্থা নিয়ে ) ৷
খেলার মাঠে খেলতে দেয়া অল্প সময়ের জন্যে হলেও তবে চেস্টা করা নিরাপত্তামূলক ব্যাবস্থা রাখা ৷ এটাতে হয়তো অনেকই দ্বিমত পোষণ করবে তবে আমি মনে করি খেলাধুলা করা কেউ অসুস্থ হয় না অন্তত মানুষিকভাবে!
এরপরও অনেকেই এর বাহিরে থেকে যায়! যার বিশাল অংশ তরুণ! স্কুল বা কলেজগামি শিক্ষার্থী ৷
তাদের ঘরে রাখার খুব ভাল একটা পদ্ধতি হলো ৮ টাকার নাম মাত্র ১ জিবির পরিবর্তে তাদের প্রতিদিন সম্ভব হলে ১ জিবি ডাটা টেলিটক তার বর্ণমালা, আগামী বা এ ধরণের সিমগুলোতে ঘরে রাখার জন্যে দিতে পারে!
এ দিয়ে সরকারিভাবে কৃত অনলাইন ক্লাস গুলো স্বাচ্ছন্দে করা প্রয়োজনে ব্লগিং,গেইমিং,ব্রাউজিং বা ইউটিউবে নানা অনুষ্ঠান দেখে কাটাক ! তখন এদের শুধু বলবেন জিপিএসে তোমার মোবাইল ট্র্যাক করা হচ্ছে! ঘর থেকে বের হলে ফ্রি জিবি আর পাবা না!
বেকার বা দিনমুজুর দের একটা ভাতা দেন আর একই কথা তাদেরও বলেন ৷ দেখেন তো এরপরও কারা রাস্তায় অহেতুক ঘুরে!
আরেকটা বিষয় জাপান এ করোনা নিয়ন্ত্রণ করেছে তিনটি c ব্যাবহার করে!
1 Avoid crowd
2 Avoid close contract
3 Collect and collaps infected.
আমরা আর একটু সচেতন হলেইতো সমাধান হয়ে যায় বিষয়টা!
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন