সরকারি চাকুরিতে নিয়োগের নীতিমালা

এত বড় একটা বিপ্লব হয়ে গেল কেবল সরকারি চাকুরিতে নিয়োগ সংক্রান্ত কোটা বিধি নিয়ে ৷ সরকার বা রাজনৈতিক কর্মিদের সদইচ্ছা থাকলে তা খুব সহজেই সমাধান করা যেত! এবং একটা সর্বজন গৃহীত পদ্ধতি দাড় করানো যেত ৷

নিয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে আমার একটা বিকল্প চিন্তা আছে যেটা আজ আমি সবার সাথে শেয়ার করতে চাই ৷ ভুলত্রুটি মার্জনীয়!
সরকারি ও যে কোন চাকুরিতে এ ধরণটি অনুসরণ করা যেতে পারে ৷ 

এই নীতিতে যে কোন চাকরির বয়স সীমা ১৬ থেকে শুরু ৬০ এ শেষ ৷
২০টি গ্রেডে বিভক্ত এই বিভাজনে প্রতিটি গ্রেডে প্রবেশের জন্যে আপনার অবশ্যই পূর্বতন গ্রেডে ২ বছর চাকুরি এবং প্রমোশন পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতেই হবে ৷ অনুত্তীর্ণ হলে পরবর্তি বছর আবার একবার সুযোগ পাবে প্রমোশন পরীক্ষা দেয়ার ৷ এবারও যদি সে অনুত্তীর্ণ হয় তবে তাকে শেষ মূলবেতন স্কেলের সমপরিমান ২ বছরের অর্থ পেনশন বাবদ দিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হবে ৷ পরীক্ষার বিষয় হবে অর্থনীতি, সমসাময়িক বিশ্ব ও বাংলাদেশ এবং বিষয় ও পদ সংশ্লিষ্ট সাথে মৌখিক পরীক্ষা ৷ মাধ্যম হবে ১-১০ম গ্রেড ইংরেজি এবং ১১-২০ তম গ্রেড বাংলা ও ইংরেজিতে ৷

প্রভিশনারি পিরিয়ড হবে ১৬ থেকে ১৮ বছর যা গ্রেড-২০ হিসেবে শুরু হবে ৷ প্রতিটি গ্রেডে বেতন বৃদ্ধি পাবে ২ হাজার করে ৷ এভাবে ৫৮-৬০ বছরের কেউ সকল প্রমোশনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে গ্রেড-১ এ অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং মূলবেতন হবে অন্যান আনুষঙ্গিক ব্যায় ছাড়া ৬০ হাজার টাকা ৷ পেনশনে তিনি একই শেষ মূলবেতনের ২ বছরের সমপরিমাণ অর্থ পেনশন হিসেবে পাবেন অন্যান সুযোগসুবিধা ছাড়া ৷ সরকার এখানে কোন গ্রেডে স্থায়ী কোন নিয়োগ দিতে পারবে না প্রবিশনারি  ২০ তম গ্রেডে ছাড়া যা সারা দেশে একই দিনে পাবলিক পরীক্ষার মত করে হবে এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন দিয়েই পাশকৃত সকলেই ৷ যেকোন গ্রেডে উপযুক্ত ব্যাক্তি পাওয়া না গেলে অস্থায়ীভাবে সর্বোচ্চ ১ বছরের জন্যে উর্ধতন গ্রেডের কাউকে অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব হিসেবে রাখা যেতে পারে ৷
প্রতিবছর একট নিদৃষ্ট  দিন প্রমোশনাল পরীক্ষার জন্যে নির্ধারিত করা হবে এবং তা পাবলিক সার্ভিস ডে হিসেবে পরীক্ষার্থীদের জন্যে পরীক্ষ এবং অন্যদের জন্যে সাধারণ ছুটি হিসেবে বিবেচিত হবে ৷
এর বাহিরে রাজনীতি করার জন্যেও এই গ্রেড অনুসরন করা যেতে পারে মেধার পরিচয় দিয়ে যারা গ্রেড - ১ এ যেতে পারবে তারাই কবেল সংসদ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে ৷ সে ক্ষেত্রে তাদের গ্রেডকে বিভক্ত করা যেতে পারে ৫ বছর অন্তর ধরে ৯ টি গ্রেডে যার সর্বনিন্ম গ্রেড হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এবং সর্বোচ্চ গ্রেড জাতীয় সংসদ সদস্য ৷ যো কোন গ্রেডে একজন ব্যাক্তি সর্বোচ্চ ২ বার নির্বাচন করতে পারবেন ৷ রাষ্ট্রপতি হবেন অবশ্যই ৬৫ উর্ধ্ব এবং অন্তত একবার নির্বাচিত সংসদ ৷ কোন রকম দূর্নীতি ও অসদাচরণের প্রমান পেলে তার সকল রকম গ্রেড স্থগিত থাকবে সর্বোচ্চ ২ বছরের জন্যে এ সময়ে তার অপরাধ ও যুক্তি খন্ডন করে নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে হবে অন্যথায় রাষ্ট্র প্রদত্ত সকল সরকারি বিশেষ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে ৷

আমরা ইচ্ছা করলে এভাবে একটি জ্ঞানভিত্তিক, মেধা ভিত্তিক গনমানুষের ও যোগ্যদের অংশগ্রহণে সাম্যের মৈত্রীর ইনসাফের সরকার ও রাষ্ট্র কাঠামো গড়তে পারি ৷ ছোট মানুষ হিসেবে এটা আমার একটা ছোট চিন্তা! অবশ্যই বড়দের এর চেয়েও ভাল চিন্তার রকম আছে ৷ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর গঠনতন্ত্র

বান্দরবান পরিচিতি

ইসলাম ও ইহুদী ধর্মের কিছু সাদৃশ্যের কথা